Curriculum
Discourse: আপনার ব্র্যান্ডিং - আপনার মতো
Login

Curriculum

আপনার ব্র্যান্ডিং - আপনার মতো

অধ্যায় ৩: আপনার শিল্পের কদর করবে কে?

0/0

অধ্যায় ৪: ওয়েবসাইট: আপনার নিজের গ্যালারি

0/0

অধ্যায় ৫: কনটেন্টের জাদুকরী শক্তি

0/0

অধ্যায় ৬: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওয়েবসাইটে যাতায়াত

0/0

অধ্যায় ৭: কাস্টমারের সাথে আত্মার সম্পর্ক

0/0
Text Session

পর্ব ৩: নিজস্ব ওয়েবসাইট – স্বাধীন শিল্পীর নিজস্ব গ্যালারি

সৃজনী: ভিড় বাস মানে তুমি আবার ওই সোশ্যাল মিডিয়ার কথাই বলছ তো?

অনির্বাণ: ঠিক তাই। দেখো, সোশ্যাল মিডিয়া হলো একটা পাবলিক প্ল্যাটফর্ম। ওখানে তোমার ছবির ঠিক নিচেই হয়তো একটা মিমের ভিডিও চলছে, বা কারো ট্রাভেল ভ্লগ। মানুষের মন ওখানে স্থির থাকে না।

সৃজনী: একদম সত্যি। আমি নিজেই তো পাঁচ সেকেন্ডের বেশি কোনো পোস্টে দাঁড়াই না। কিন্তু এর বিকল্প কী? কিছুদিন আগে আমি আমার নিজের একটা ওয়েবসাইট বানিয়েছি বটে, কিন্তু ওটা তো অনেকটা ভিজিটিং কার্ডের মতো পড়ে আছে।

অনির্বাণ: ওটাকে শুধু ভিজিটিং কার্ড হিসেবে ফেলে রাখলে চলবে না সৃজনী। ওটাই হলো তোমার সেই ‘নিজস্ব গ্যালারি’, যার কথা আমি একটু আগে বলছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়া হলো একটা ভাড়াবাড়ি। আজ ইনস্টাগ্রাম আছে, কাল হয়তো নতুন কোনো অ্যাপ আসবে, তখন তোমার এই হাজার হাজার ফলোয়ার কোথায় যাবে? তোমার নিজের হাতে তো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

সৃজনী: হ্যাঁ, এটা আমি ভেবে দেখেছি। ভয়ও লাগে মাঝেমধ্যে। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে বা ব্লক হয়ে গেলে সব শেষ।

অনির্বাণ: কিন্তু তোমার ওয়েবসাইটটা তোমার নিজস্ব সম্পত্তি। ওটার ডোমেইন (Domain) তোমার। ওখানে কোনো অ্যালগরিদম ঠিক করবে না কে তোমার ছবি দেখবে আর কে দেখবে না। কেউ যখন তোমার ওয়েবসাইটে ঢোকে, তখন দরজাটা তার পেছন থেকে বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে শুধু তুমি আর তোমার শিল্প। অন্য কোনো বিজ্ঞাপন বা অন্য কারো পেইজ তাকে ডিস্টার্ব করার জন্য থাকে না।

সৃজনী: [চিন্তিত মুখে] কথাটা খুব লজিক্যাল। ওয়েবসাইটে এলে মানুষ একটা আনইন্টারাপ্টেড (Uninterrupted) এক্সপেরিয়েন্স পায়। কিন্তু অনির্বাণদা, ওয়েবসাইটে তো কেউ নিজে থেকে আসে না। সেখানে ট্রাফিক (Traffic – ওয়েবসাইটে আসা দর্শনার্থী) আনব কী করে?

অনির্বাণ: এখানেই আসবে সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার। তুমি সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করবে একটা গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার হিসেবে। সেখানে তোমার কাজের ছোট ছোট ঝলক থাকবে, বিহাইন্ড-দ্য-সিনস থাকবে। আর যারা সত্যিই তোমার কাজ নিয়ে আগ্রহী, তাদের তুমি ইনভাইট করবে তোমার ওয়েবসাইটে আসার জন্য। সেখানে হয়তো তোমার ছবির হাই-রেজোলিউশন গ্যালারি থাকবে, তোমার লেখা ছোট ব্লগ থাকবে, আর সরাসরি কাজ অর্ডার করার অপশন থাকবে।

সৃজনী: তার মানে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম হলো আমার প্রদর্শনীর সেই ‘পোস্টার’, আর ওয়েবসাইট হলো আমার ‘আসল স্টুডিও’।

অনির্বাণ: [হাসি মুখে] পারফেক্ট! তুমি খুব তাড়াতাড়ি ধরছ বিষয়টা। একটা প্রফেশনাল ওয়েবসাইট মানুষকে অবচেতনভাবে এই মেসেজটা দেয় যে, তুমি তোমার কাজ নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। তুমি আজ আছো কাল নেই—এমন শখের শিল্পী নও। এই বিশ্বাসযোগ্যতা বা ট্রাস্ট (Trust) তৈরি করাটাই ব্র্যান্ডিংয়ের প্রথম ধাপ।

সৃজনী: আজ সত্যিই অনেকগুলো ভুল ধারণা ভেঙে গেল। আমার ওয়েবসাইটের ডিজাইনটা নিয়ে আমাকে এবার একটু সিরিয়াসলি ভাবতে হবে। ওটাকে একটা প্রপার আর্ট গ্যালারির লুক দিতে হবে।

অনির্বাণ: নিশ্চয়ই। তবে শুধু লুক দিলেই হবে না। গ্যালারির দেওয়ালের রং কী হবে, সেখানে তোমার কাজ কীভাবে সাজানো থাকবে—এগুলোও ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ। পরের দিন যখন বসব, তখন আমরা এই ‘ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি’ বা তোমার ব্র্যান্ডের নিজস্ব চেহারা ও স্বভাব কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়ে আলোচনা করব।

সৃজনী: ডান! আমি কালকের মধ্যেই আমার ওয়েবসাইটের বর্তমান অবস্থাটা খাতায় নোট করে রাখছি।

(বিকেলের আলো মরে এসেছে। স্টুডিওর হলুদ আলোয় সৃজনীর ক্যানভাসটা যেন নতুন কোনো সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে আছে। নিজের কাজকে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে দেখার এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তাকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দিল।)

>
Chat