সৃজনী: [নিজের ল্যাপটপটা টেনে নিয়ে] আচ্ছা, তুমি যে রেস্পেক্ট আর লয়্যালটির কথা বলছ, সেটা আসে কীভাবে? আমি তো মাঝেমধ্যেই আমার পেইজ থেকে ছবিগুলো বুস্ট (Boost) করি বা অ্যাডভার্টাইজমেন্ট চালাই, যাতে বেশি লোক কেনে। ওটাও তো এক ধরনের ব্র্যান্ডিং, তাই না?
অনির্বাণ: না, সৃজনী। তুমি যেটা করছ সেটাকে বলে সেলস বা মার্কেটিং। ব্র্যান্ডিং আর মার্কেটিংয়ের মধ্যে একটা খুব সূক্ষ্ম, কিন্তু বড় পার্থক্য আছে।
সৃজনী: কেমন? একটু বুঝিয়ে বলো।
অনির্বাণ: খুব সাধারণ একটা উদাহরণ দিই। ধরো, তুমি তোমার এই স্টুডিওতে একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছ। তুমি শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার দিলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইভেন্ট তৈরি করলে, মানুষকে জানালে যে আগামী রবিবার তোমার প্রদর্শনী। এই যে তুমি মানুষকে ডাকছ, এটা হলো মার্কেটিং।
সৃজনী: আচ্ছা। আর ব্র্যান্ডিং কোনটা?
অনির্বাণ: লোকজন যখন তোমার স্টুডিওতে ঢুকল, এখানকার এই ক্যানভাসের গন্ধ, ঘরে চলা হালকা ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক, তোমার ছবিগুলোর সুন্দর ফ্রেমিং এবং সর্বোপরি তোমার সাথে তাদের যে পরিশীলিত আলাপ হলো—সব মিলিয়ে তাদের যে একটা অমলিন অভিজ্ঞতা তৈরি হলো, সেটাই ব্র্যান্ডিং। এর ফল কী হবে জানো? পরের বার প্রদর্শনীর সময় তাদের আর পোস্টার দেখে আসতে হবে না। তারা নিজে থেকেই খোঁজ নেবে, “সৃজনীর নতুন কাজ কবে আসছে?”
সৃজনী: [চোখে একটা উপলব্ধির ঝিলিক] বাহ! দারুণ বললে তো। তার মানে মার্কেটিং মানুষকে আমার দরজায় টেনে আনে, আর ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করে তারা যেন বারবার ফিরে আসে।
অনির্বাণ: একদম! মার্কেটিং হলো তোমার শিল্পের ঘোষণা। আর ব্র্যান্ডিং হলো তোমার শিল্পের চরিত্র। তুমি যখন অ্যাড চালিয়ে লেখো “টুয়েন্টি পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে আমার পোর্ট্রেট আঁকিয়ে নিন”, তখন তুমি নিজের আর্টকে একটা কমোডিটি বা সাধারণ পণ্যে নামিয়ে আনছ। কিন্তু তুমি যখন একটা ভিডিওতে শান্ত গলায় বলো, কেন তুমি এই বিশেষ পোর্ট্রেটটায় নীল রঙের আধিক্য রেখেছ, তখন তুমি মানুষের সাথে একটা মানসিক সংযোগ তৈরি করছ। মানুষ তখন শুধু ছবি কেনে না, তারা তোমার ওই অনুভূতিটা কেনে।
সৃজনী: বুঝতে পারছি। আমি এতদিন শুধু ‘কী’ বিক্রি করছি সেটাতেই জোর দিতাম, ‘কেন’ করছি বা তার পেছনের গল্পটা কখনো বলিনি।
অনির্বাণ: এটাই তো শিল্পীদের সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর কাছে প্রচুর টাকা থাকতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে কোনো অরিজিনাল গল্প নেই। তোমার এই রং মাখা হাত, তোমার রাত জাগা—এগুলোই তোমার ব্র্যান্ডের সম্পদ। তবে হ্যাঁ, এই গল্পগুলো বলার জন্য একটা সঠিক পরিবেশ দরকার। ভিড় বাসে দাঁড়িয়ে কি আর কবিতার আসর জমানো যায়?
ডিজিট্যাল পরামর্শদাতা