Curriculum
Discourse: আপনার ব্র্যান্ডিং - আপনার মতো
Login

Curriculum

আপনার ব্র্যান্ডিং - আপনার মতো

অধ্যায় ৩: আপনার শিল্পের কদর করবে কে?

0/0

অধ্যায় ৪: ওয়েবসাইট: আপনার নিজের গ্যালারি

0/0

অধ্যায় ৫: কনটেন্টের জাদুকরী শক্তি

0/0

অধ্যায় ৬: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওয়েবসাইটে যাতায়াত

0/0

অধ্যায় ৭: কাস্টমারের সাথে আত্মার সম্পর্ক

0/0
Text Session

পর্ব ১: ইঁদুরদৌড় বনাম নিজস্ব পরিচিতি

চরিত্র পরিচিতি:
১. অনির্বাণ (৩৮): একজন অভিজ্ঞ ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট এবং ব্র্যান্ড কনসালট্যান্ট। কথাবার্তায় ধীরস্থির, চিন্তাশীল। শিল্পের সাথে ব্যবসার যে একটা সূক্ষ্ম যোগসূত্র আছে, সেটা তিনি খুব ভালোভাবে বোঝেন।
২. সৃজনী (২৮): একজন স্বাধীন ক্যানভাস পেন্টার এবং ডিজিটাল ইলাস্ট্রেটর। গত তিন বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং করছে। কাজ খুব ভালো, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার ইঁদুরদৌড়ে সে ক্লান্ত। সম্প্রতি নিজের একটা ওয়েবসাইট করেছে, কিন্তু ব্র্যান্ডিং নিয়ে তার ধারণা বেশ অস্পষ্ট।

প্রেক্ষাপট:
সৃজনীর নিজস্ব ছোট্ট স্টুডিও। ঘরের একপাশে ইজেল, ক্যানভাস আর রঙের ছড়াছড়ি। জানলার বাইরে বিকেলের পড়ন্ত আলো। অনির্বাণ এসেছেন সৃজনীর নতুন একটা সিরিজের কাজ দেখতে। চা খেতে খেতে তাদের মধ্যে কথোপকথন শুরু হয়।

—————

সৃজনী: [চায়ের কাপটা অনির্বাণের দিকে এগিয়ে দিয়ে, একটু পরিশ্রান্ত গলায়] জানো অনির্বাণদা, ইদানীং কাজ করতে বসলেই একটা অদ্ভুত ক্লান্তি লাগে। মনে হয়, কাদের জন্য আঁকছি? গত সপ্তাহে ওই ওয়াটারকালার সিরিজটা শেষ করতে আমার টানা চার দিন লেগেছে। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলাম, আর রিচ (Reach – কত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে) হলো মাত্র কয়েকশো। মনে হচ্ছে যেন একটা ফাঁকা ঘরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছি।

অনির্বাণ: [চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ক্যানভাসের দিকে তাকিয়ে] ছবিটা তো দারুণ হয়েছে। আলো-ছায়ার কাজটা খুব পরিণত। কিন্তু তোমার হতাশার জায়গাটা বুঝতে পারছি। সমস্যাটা তোমার কাজে নয় সৃজনী, সমস্যাটা হলো তুমি একটা অ্যালগরিদমের (Algorithm – সোশ্যাল মিডিয়ার নিজস্ব নিয়ম) কাছে নিজের শিল্পের ভ্যালুয়েশন চাইছ।

সৃজনী: কিন্তু উপায় কী? সবাই তো ওখানেই আছে। আমি যদি রোজ ট্রেন্ডিং অডিও দিয়ে রিলস না বানাই, লোকজন তো আমাকে ভুলেই যাবে।

অনির্বাণ: এই ‘ভুলে যাওয়ার’ ভয়টাই তো প্রমাণ করছে যে তুমি এখনো ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারোনি। তুমি এখনো একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়েই রয়ে গেছ।

সৃজনী: [একটু অবাক হয়ে] দুটো কি আলাদা? আমি তো আমার আর্ট পেইজেই আমার কাজ দিই। সেটাই তো আমার ব্র্যান্ড।

অনির্বাণ: [মৃদু হেসে] ধরো, তুমি রোজ একটা ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ছবি আঁকছ। হাজার হাজার মানুষ পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কেউ দু’সেকেন্ড দাঁড়াচ্ছে, কেউ একটু হাততালি দিচ্ছে, তারপর চলে যাচ্ছে। এটাকে বলে অ্যাটেনশন বা মনোযোগ পাওয়া। কিন্তু ব্র্যান্ড হওয়া মানে হলো—শহরের একপ্রান্তে তোমার একটা নিজস্ব গ্যালারি থাকবে, আর মানুষ টিকিট কেটে, ট্রাফিক জ্যাম পেরিয়ে শুধু তোমার কাজ দেখতে আসবে। কারণ তারা জানে, ‘সৃজনীর কাজে’ এমন কিছু আছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না।

সৃজনী: [একটু ভেবে] কথাটা খুব গভীর। কিন্তু এই যে বলছ ‘আমার কাজে এমন কিছু আছে’—সেটা মানুষ বুঝবে কী করে, যদি আমি রোজ তাদের চোখের সামনে না থাকি?

অনির্বাণ: চোখের সামনে থাকতে হবে নিশ্চয়ই, কিন্তু সস্তা বিনোদন হয়ে নয়। তুমি যখন ট্রেন্ডিং গানের তালে তালে তাড়াহুড়ো করে কাজের প্রসেস দেখাচ্ছ, তখন মানুষ গানটা উপভোগ করছে, তোমার শিল্পের গভীরতা নয়। ব্র্যান্ডিং হলো তোমার কাজের পেছনের দর্শন বা ফিলোজফিটাকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। তোমার রঙের ব্যবহার, তোমার সিগনেচার স্টাইল, এমনকি তুমি যে ক্যানভাসটা বেছে নাও—সবকিছুর মধ্যে যখন একটা নির্দিষ্ট চরিত্র তৈরি হয়, তখন সেটা ব্র্যান্ড। তখন অ্যালগরিদম তোমার রিচ কমিয়ে দিলেও, তোমার প্রকৃত সমঝদাররা ঠিক তোমায় খুঁজে নেবে।

সৃজনী: মানে, শুধু দৃশ্যমান হওয়াটাই যথেষ্ট নয়, মানুষের মনে একটা স্থায়ী ছাপ ফেলাটা আসল।

অনির্বাণ: ঠিক তাই। দৃশ্যমানতা তোমাকে লাইক দেবে, কিন্তু ব্র্যান্ডিং তোমাকে রেস্পেক্ট আর লয়্যাল কাস্টমার দেবে।

>
Chat