Curriculum
Discourse: আমার ব্র্যাণ্ডিং - আমার মতো
Login

Curriculum

আমার ব্র্যাণ্ডিং - আমার মতো

Text Session

পর্ব ৩: কথা বলার ভঙ্গি বা ‘টোন অফ ভয়েস’

ঋতব্রত: ভিজ্যুয়াল বা বাইরের চেহারার ব্যাপারটা আমার কাছে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল সৌভিকদা। কালই আমি আমার ওয়েবসাইটের রং আর ফন্ট চেঞ্জ করছি। কিন্তু একটা কথা বলো, ওয়েবসাইটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন কিছু লিখব, তখন কীভাবে লিখব?

সৌভিক: তুই সাধারণত কীভাবে লিখিস?

ঋতব্রত: আমার ওয়েবসাইটের ‘অ্যাবাউট মি’ (About Me) সেকশনটা আমি একটা এআই (AI) টুল দিয়ে লিখিয়েছিলাম। লিখেছে— “Ritabrata is a highly proficient musical artist dedicated to delivering optimal auditory experiences…” আর সোশ্যাল মিডিয়ায় গান শেয়ার করার সময় শুধু কয়েকটা ইমোজি দিয়ে লিঙ্কটা পেস্ট করে দিই।

সৌভিক: [হো হো করে হেসে উঠে] সর্বনাশ! তোর গান শুনে মনে হয় তুই একটা আড্ডা-পাগল, মাটির কাছাকাছি থাকা ছেলে, যে ভাঙাচোরা প্রেমের গান গায়। আর তোর ওয়েবসাইটের লেখা পড়লে মনে হচ্ছে কোনো কর্পোরেট ব্যাঙ্কের ম্যানেজার লোন বিক্রি করার জন্য ফর্ম্যাল নোটিশ দিয়েছে!

ঋতব্রত: [একটু অপ্রস্তুত হয়ে] না মানে, ইংরেজিতে ওভাবে লিখলে একটু প্রফেশনাল লাগে, তাই…

সৌভিক: এই ‘প্রফেশনাল’ শব্দটার একটা ভুল ব্যাখ্যা আমাদের মাথায় ঢুকে বসে আছে। প্রফেশনাল মানেই রোবটের মতো কাঠখোট্টা হওয়া নয়। তোর ব্র্যান্ডের একটা নিজস্ব কণ্ঠস্বর বা ‘টোন অফ ভয়েস’ (Tone of Voice) থাকা চাই। তুই তোর শ্রোতাদের সাথে কীভাবে কথা বলছিস, সেটা তোর গানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

ঋতব্রত: টোন অফ ভয়েস? সেটা আবার কী?

সৌভিক: ধর, তুই স্টেজে যখন লাইভ পারফর্ম করিস, তখন তুই দর্শকদের সাথে কীভাবে কথা বলিস? তুই কি তাদের বলিস, “আপনাদের অপ্টিমাল অডিটরি এক্সপেরিয়েন্সের জন্য আমি পরের গানটা গাইছি”?

ঋতব্রত: [হেসে ফেলে] পাগল নাকি! আমি তো বলি, “এই গানটা তাদের জন্য, যারা কাল রাতে ঘুমাতে পারোনি।”

সৌভিক: এক্স্যাক্টলি! ওই যে তুই বললি, “যারা কাল রাতে ঘুমাতে পারোনি”—ওটাই তোর আসল গলা। ওটাই তোর ব্র্যান্ডের টোন অফ ভয়েস। তোর ওয়েবসাইটের লেখাগুলোও ঠিক এইরকম হওয়া উচিত। তুই বাংলায় লিখিস বা ইংরেজিতে, লেখাটা পড়ে শ্রোতার যেন মনে হয় তুই গিটার কোলে নিয়ে সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিস।

ঋতব্রত: মানে, কোনো মেকি গাম্ভীর্য রাখার দরকার নেই? আমি যেমন, আমি ঠিক তেমনভাবেই লিখব?

সৌভিক: একদম। তোর ব্র্যান্ডের স্বভাব যদি হয় ইনটিমেট আর নস্টালজিক, তাহলে তোর ওয়েবসাইটের লেখাতেও সেই ছোঁয়া থাকতে হবে। তুই যখন নতুন গানের লিঙ্ক দিবি, শুধু ইমোজি না দিয়ে ছোট করে একটা গল্প বলবি। লিখবি, “গত মঙ্গলবার বৃষ্টিভেজা সন্ধেটায় সুরটা মাথায় এলো। আজ তোমাদের জন্য ওয়েবসাইটের গ্যালারিতে তুলে দিলাম। শুনে জানিও।” দেখবি, এই ছোট্ট আন্তরিক কথাটাই তোর শ্রোতার মনে গেঁথে যাবে।

ঋতব্রত: সত্যি সৌভিকদা, আজ আমার চোখ খুলে গেল। আমি এতদিন গানটাকে যত্ন করতাম, কিন্তু গানের পরিবেশটাকে অবহেলা করতাম। ওয়েবসাইটটাকে আমি একটা জ্যান্ত মানুষের মতো না ভেবে, একটা স্টোররুমের মতো বানিয়ে রেখেছিলাম।

সৌভিক: এই তো, তুই আসল জায়গাটা ধরতে পেরেছিস। তোর ওয়েবসাইট হলো তোর ডিজিটাল ড্রয়িংরুম। সেখানে যে আসবে, সে যেন তোর লোগো, তোর ওয়েবসাইটের রং, আর তোর লেখার ভঙ্গির মধ্যে দিয়ে তোকেই খুঁজে পায়। তুই নিজেই তোর ব্র্যান্ড। তোর কোনো মেকি মুখোশের দরকার নেই, শুধু নিজের আয়নাটাকে পরিষ্কার রাখতে হবে।

ঋতব্রত: [উঠে দাঁড়িয়ে, চোখে একটা দারুণ উদ্দীপনা নিয়ে] অনেক ধন্যবাদ দাদা। আমার ‘রাগ’ আর ‘তাল’ দুটোই আমি আজ খুঁজে পেয়েছি। এবার শুধু ওয়েবসাইটের ক্যানভাসে সেটাকে ফুটিয়ে তোলার পালা।

(স্টুডিওর নীলচে আলোটা এখন আর ম্লান লাগছে না ঋতব্রতর কাছে। ওর মাথার ভেতর ইতিমধ্যে নিজের ওয়েবসাইটের নতুন রূপটা একটা সুন্দর মেলোডির মতো বাজতে শুরু করেছে।)

>
Chat