Curriculum
Discourse: আমার ব্র্যাণ্ডিং - আমার মতো
Login

Curriculum

আমার ব্র্যাণ্ডিং - আমার মতো

Text Session

পর্ব ১: মুখাবয়ব বা ব্র্যান্ডের প্রথম পরিচয়

চরিত্র পরিচিতি:
১. সৌভিক (৪২): একজন নামজাদা মিউজিক প্রোডিউসার এবং সাউন্ড ডিজাইনার। বহু বছর ধরে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন। তিনি শব্দ নিয়ে যেমন খেলেন, তেমনি একজন শিল্পীর মনস্তত্ত্বও খুব ভালো বোঝেন। কথাবার্তায় এক ধরনের দার্শনিক গভীরতা আছে।
২. ঋতব্রত (২৯): একজন প্রতিভাবান সিঙ্গার-সংরাইটার (যিনি নিজের গান নিজে লেখেন ও সুর করেন)। ওর গানের কথাগুলো ভীষণ সুন্দর, গলাটাও মায়াবী। ইউটিউব আর স্পটিফাইতে ওর গান আছে, নিজের একটা ওয়েবসাইটও বানিয়েছে। কিন্তু ওর সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েবসাইটের দিকে তাকালে কোনো নির্দিষ্ট ছন্দের দেখা মেলে না।

প্রেক্ষাপট:
দক্ষিণ কলকাতার একটা সাউন্ডপ্রুফ রেকর্ডিং স্টুডিও। চারপাশটা বেশ ছিমছাম, মায়াবী নীলচে আলো জ্বলছে। দেওয়ালে কয়েকটা অ্যাকোস্টিক গিটার ঝোলানো। ঋতব্রত ওর নতুন তৈরি করা একটা গানের ট্র্যাক সৌভিককে শোনাতে এসেছে। গান শেষ হওয়ার পর স্তব্ধতা ভেঙে শুরু হলো তাদের কথা।

——————-

সৌভিক: [হেডফোনটা নামিয়ে রেখে, চোখ বুজে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন] অসাধারণ! ঋতব্রত, তোর এই গানটার মধ্যে যে একটা স্যাঁতস্যাঁতে মনখারাপের গন্ধ আছে, সেটা আমাকে ছুঁয়ে গেল। লিরিক্সটা তুই জাস্ট ফাটিয়ে লিখেছিস।

ঋতব্রত: [একটু হেসে, কিন্তু স্বরটা ম্লান] থ্যাংক ইউ সৌভিকদা। কিন্তু মুশকিলটা কী জানো? গানটা আমি কাল রিলিজ করেছি, একটা লিরিক ভিডিও বানিয়ে নিজের ওয়েবসাইটেও দিয়েছি। কিন্তু কেউ শুনছে না। মানে, ক্লিকই করছে না। অথচ, গত মাসে যখন ওই সস্তা রিমেক গানটা গিটার বাজিয়ে গেয়েছিলাম, সেটাতে হু হু করে ভিউ এলো। মাঝে মাঝে মনে হয়, সিরিয়াস কাজ করার কোনো মানেই হয় না।

সৌভিক: [চেয়ারটায় হেলান দিয়ে] ভুলটা তোর গানে নেই ঋতব্রত, ভুলটা আছে তোর মোড়কে। তুই আমাকে গানটা শোনালি, আমি মুগ্ধ হলাম। কিন্তু বাইরের শ্রোতা তো আগে তোর গানটা শুনতে পায় না, তারা আগে তোর গানের থাম্বনেইল (Thumbnail – ভিডিওর উপরের কভার ছবি) বা ওয়েবসাইটের ব্যানারটা দেখে। আচ্ছা, কালকের ভিডিওটার কভার হিসেবে তুই কী দিয়েছিস?

ঋতব্রত: ওই তো… গুগল থেকে একটা বৃষ্টির ছবি নামিয়ে তার ওপর লাল আর হলুদ রং দিয়ে বড় বড় করে গানের নামটা লিখে দিয়েছি। যাতে লোকের চোখে পড়ে।

সৌভিক: [একটু হেসে] এই রে! এখানেই তো তাল কেটে গেল। তোর গানটা হলো একটা মেঘলা দিনের ধ্রুপদী কবিতার মতো, আর তুই তার গায়ে পরিয়ে দিয়েছিস একটা চড়া লাল-হলুদ রঙের প্লাস্টিকের রেইনকোট! দুটো কি মিলল?

ঋতব্রত: মানে? আমি তো জাস্ট চেয়েছিলাম লেখাটা স্পষ্ট বোঝা যাক।

সৌভিক: এখানেই আসে ব্র্যান্ডের ‘চেহারা’ বা ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি (Visual Identity)। দেখ, তুই যখন একটা গান করিস, তুই কি যেকোনো স্কেলে বা যেকোনো ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে করিস? না। তুই গানের মুড বুঝে কখনো হয়তো শুধু একটা অ্যাকোস্টিক গিটার রাখিস, কখনো হয়তো বাঁশি দিস। ব্র্যান্ডিংও ঠিক তাই। তোর ডিজিটাল উপস্থিতি—তোর ওয়েবসাইট, তোর লোগো, তোর কভার আর্ট—এগুলো হলো তোর গানের প্রিলিউড (Prelude – গানের শুরুর মিউজিক)। মানুষ গানটা শোনার আগেই ওই চেহারাটা দেখে তোর গানের মুডটা আন্দাজ করে নেবে।

ঋতব্রত: কিন্তু আমার তো কোনো লোগো নেই। আমি তো আর কর্পোরেট কোম্পানি নই যে লোগো বানাব। আমার নামটাই তো আমার পরিচয়।

সৌভিক: ঠিক বলেছিস। স্বাধীন শিল্পীদের ক্ষেত্রে নিজের নামটাই লোগো। কিন্তু সেই নামটা তুই ‘কীভাবে’ লিখছিস, সেটা খুব জরুরি। এটাকে বলে টাইপোগ্রাফি (Typography – অক্ষর বিন্যাস)। তুই যদি তোর নামটা একটা প্যাঁচানো, ক্লাসিক ফন্টে (Font – অক্ষরের স্টাইল) লিখিস, মানুষ ভাববে তুই গজল বা ক্লাসিক্যাল গাস। আবার তুই যদি এবড়োখেবড়ো, গ্রাফিটির মতো ফন্টে লিখিস, মানুষ ভাববে তুই হয়তো রক বা র‍্যাপ করিস।

ঋতব্রত: [একটু নড়েচড়ে বসে] তার মানে, আমার ওয়েবসাইটের হেডিংয়ে যে আমি আমার নামটা সাধারণ একটা অক্ষরে লিখে রেখেছি, সেটা আমার ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরছে না?

সৌভিক: একদমই না। তোকে একটা সিগনেচার স্টাইল তৈরি করতে হবে। এমন একটা ফন্ট বা লোগো, যেটা দেখলে লোক এক চান্সে বলে দেবে—”হ্যাঁ, এটা ঋতব্রতর গান।” লোগো মানে একটা গোল সাইনবোর্ড নয়, লোগো হলো তোর শিল্পের প্রথম মুখাবয়ব। এটা তোর শ্রোতার সাথে তোর প্রথম ‘আই-কন্ট্যাক্ট’।

>
Chat