ঋতব্রত: মুখাবয়বের ব্যাপারটা বুঝলাম। আমার নামের ফন্টটা আমাকে আমার গানের মেজাজ অনুযায়ী ঠিক করতে হবে। কিন্তু রঙের কথাটা যে বলছিলে? লাল-হলুদ দিলে সমস্যা কোথায়? কালারফুল হলে তো বেশি চোখে পড়ে।
সৌভিক: চোখে পড়া আর মন টানা—দুটো এক জিনিস নয় রে ভাই। ধর, তুই একটা শান্ত পাহাড়ি গ্রামে গেছিস। চারদিকে সবুজ, কুয়াশা, একটা স্নিগ্ধ ব্যাপার। তার মাঝখানে যদি একটা নিয়ন রঙের ঝিকিমিকি ডিস্কো লাইট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, তোর কেমন লাগবে?
ঋতব্রত: বিশ্রী লাগবে! চোখ টনটন করবে।
সৌভিক: ঠিক এই জিনিসটাই তুই তোর শ্রোতাদের সাথে করছিস। রঙের একটা নিজস্ব ভাষা আছে, যাকে আমরা বলি রঙের মনস্তত্ত্ব (Color Psychology)। প্রত্যেকটা রং মানুষের মনে আলাদা আলাদা অনুভূতির জন্ম দেয়। নীল রং মানুষকে প্রশান্তি দেয়, বিশ্বাস জোগায়। লাল রং উত্তেজনা, রাগ বা প্যাশনের প্রতীক। আবার ধর, প্যাস্টেল কালার বা মাটির রংগুলো (Earthy Tones) একটা নস্টালজিয়া বা শিকড়ের টান তৈরি করে।
ঋতব্রত: [চিন্তিত মুখে] আচ্ছা! আমি তো কখনো এভাবে ভাবিনি। আমি তো ক্যানভাতে (Canva) গিয়ে যে টেমপ্লেটটা কালারফুল মনে হয়, সেটাই ওয়েবসাইটের ব্যানারে বা ইনস্টাগ্রামের পোস্টে বসিয়ে দিই।
সৌভিক: এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। তুই একজন ইনডিপেনডেন্ট আর্টিস্ট। তোর ওয়েবসাইটের একটা নির্দিষ্ট ‘কালার থিম’ বা ‘কালার প্যালেট’ (Color Palette – দুই বা তিনটে নির্দিষ্ট রঙের সেট) থাকা উচিত। তোর গানগুলো মূলত মেলোডিয়াস, কথাগুলো খুব ইনটিমেট, একটা আনপ্লাগড ভাইব আছে। তোর ডিজিটাল পরিসরে যদি একটু মিউটেড কালার (Muted Color – খুব চড়া নয় এমন রং), যেমন ধর কালচে নীল, ছাই-রং, বা পোড়ামাটির রং থাকে—তাহলে সেটা তোর গানের মেজাজের সাথে খাপ খেয়ে যাবে।
ঋতব্রত: তার মানে, আমি আমার ওয়েবসাইটের ব্যাকগ্রাউন্ড, ফন্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট—সবকিছুতেই ওই নির্দিষ্ট দুটো বা তিনটে রংই ব্যবহার করব?
সৌভিক: একদম! এই ধারাবাহিকতা বা কনসিস্টেন্সি (Consistency)-টাই তোকে একটা ব্র্যান্ডে পরিণত করবে। শ্রোতা যখন তোর ওয়েবসাইটে ঢুকবে, ওই নির্দিষ্ট কালার থিমটা তাদের মনের মধ্যে একটা সাব-কনশাস (অবচেতন) সিগন্যাল পাঠাবে। তারা বুঝতে পারবে এটা ঋতব্রতর নিজস্ব জোন। তুই লক্ষ্য করে দেখবি, দুনিয়ার যেকোনো বড় মিউজিশিয়ান বা ব্যান্ডের একটা নির্দিষ্ট কালার আইডেন্টিটি থাকে।
ঋতব্রত: ব্যাপারটা যেন একটা রাগের (Raag) মতো, তাই না? যেমন ধরো রাগ ইমনের একটা নিজস্ব চলন আছে। আমি ইমনের মধ্যে হঠাৎ করে ভৈরবীর স্বর লাগিয়ে দিলে সেটা বেসুরো হয়ে যাবে।
সৌভিক: [হাততালি দিয়ে] সাবাশ! এই তো তুই একজন খাঁটি শিল্পীর মতো ধরতে পেরেছিস। তোর ব্র্যান্ডের কালার প্যালেট হলো তোর নিজস্ব রাগ। সেই রাগের বাইরে তুই যখনই অন্য রং ব্যবহার করবি, তোর ওয়েবসাইটের বা ব্র্যান্ডের পুরো ক্যানভাসটা ‘বেসুরো’ লাগবে।


ডিজিট্যাল পরামর্শদাতা