প্রথম অধ্যায়: সাধারণ পরিসংখ্যান (General Statistics)
অ্যানালিটিক্স ড্যাশবোর্ডের একদম উপরের দিকে থাকা সংখ্যাগুলো হলো আপনার ওয়েবসাইটের সবচেয়ে মৌলিক স্বাস্থ্য পরিমাপক। এগুলো বুঝলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইট আসলে কতটা কার্যকর।
১. সেশন (Sessions) — ২১৯
সেশন মানে হলো আপনার ওয়েবসাইটে একটি ব্যবহারকারীর একটি সম্পূর্ণ পরিদর্শন। কেউ আপনার সাইটে এলেন, কয়েকটা পাতা দেখলেন, এবং চলে গেলেন — এটি একটি সেশন। যদি কেউ ৩০ মিনিট বা তারও বেশি সময় পরে আবার ফিরে আসেন, সেটি নতুন একটি সেশন হিসেবে গণ্য হয়। উদাহরণের ৩০ দিনের ডেটায় মোট ২১৯টি সেশন রেকর্ড হয়েছে। অর্থাৎ একটি মাসে মোট ২১৯ বার মানুষ এই ওয়েবসাইটটি পরিদর্শন করেছেন।
এটি থেকে কী বোঝা যায়?
সেশনের সংখ্যা দিয়ে বোঝা যায় আপনার ওয়েবসাইটের সামগ্রিক ট্র্যাফিক। যদি সেশন কম হয়, তাহলে মানুষ আপনার সাইট খুঁজে পাচ্ছেন না। যদি হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়, তাহলে হয়তো কোনো পোস্ট বা কাজ ভাইরাল হয়েছে।
✅ করণীয়: প্রতি মাসে সেশন বাড়ছে কিনা দেখুন। যদি না বাড়ে, তাহলে নতুন কন্টেন্ট যোগ করুন, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন, বা SEO উন্নত করুন।
২. ভিজিটর (Visitors) — ১২৮
ভিজিটর মানে হলো অনন্য (Unique) ব্যবহারকারীর সংখ্যা। যদি একজন মানুষ ৫ বার আপনার ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেন, তাহলে সেশন হবে ৫ কিন্তু ভিজিটর হবে ১। সহজ ভাষায়, ভিজিটর মানে আলাদা আলাদা মানুষের সংখ্যা। এই ডেটায় ১২৮ জন অনন্য ভিজিটর এসেছেন। মানে ১২৮ জন আলাদা মানুষ এই ওয়েবসাইটটি একবার বা একাধিকবার দেখেছেন।
এটি থেকে কী বোঝা যায়?
সেশন (২১৯) এবং ভিজিটর (১২৮) -এর তুলনা করলে বোঝা যায় যে অনেক মানুষ বারবার ফিরে আসছেন। এটি একটি ভালো লক্ষণ — মানে কন্টেন্ট পছন্দ হচ্ছে।
✅ করণীয়: আপনার ভিজিটর এবং সেশনের অনুপাত লক্ষ্য করুন। যদি এক জন ব্যক্তি বারবার আসেন (সেশন >> ভিজিটর), তার মানে আপনার কন্টেন্ট আকর্ষণীয়। নতুন ভিজিটর বাড়াতে নতুন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করুন।
৩. পেজ ভিউ (Page Views) — ৫৮৮
পেজ ভিউ মানে হলো আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত পাতা মিলিয়ে মোট কতবার দেখা হয়েছে। যদি কেউ হোমপেজ, তারপর গ্যালারি, তারপর যোগাযোগ পাতা দেখেন — তাহলে পেজ ভিউ ৩। ৩০ দিনে মোট ৫৮৮টি পেজ ভিউ হয়েছে। এর মানে গড়ে প্রতিটি সেশনে মানুষ প্রায় ২-৩টি পাতা দেখেছেন।
এটি থেকে কী বোঝা যায়?
পেজ ভিউ বেশি মানে মানুষ শুধু এক পাতা দেখেই চলে যাচ্ছেন না, সাইটের আরও গভীরে যাচ্ছেন। এটি মানে কন্টেন্ট আকর্ষণীয় এবং নেভিগেশন ভালো।
✅ করণীয়: জনপ্রিয় পাতাগুলো থেকে অন্য পাতায় যাওয়ার লিঙ্ক রাখুন। যেমন, গ্যালারি পাতায় ‘আমার সম্পর্কে’ বা ‘যোগাযোগ করুন’ বোতাম রাখুন।
৪. গড় সাইটে সময় (Avg. Time on Site) — ৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ড
ভিজিটররা গড়ে ৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ড ওয়েবসাইটে সময় কাটাচ্ছেন। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক। মানুষ কতক্ষণ আপনার সাইটে থাকলেন তা দিয়ে বোঝা যায় আপনার কন্টেন্ট কতটা আকর্ষণীয়।
এটি থেকে কী বোঝা যায়?
৫ মিনিটের বেশি সময় থাকা একটি চমৎকার ফলাফল। সাধারণত ব্লগ বা পোর্টফোলিও সাইটে ২-৩ মিনিট গড় সময় ভালো বলে মনে করা হয়। ৫ মিনিটের বেশি মানে ভিজিটররা কন্টেন্ট মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন।
✅ করণীয়: দীর্ঘ এবং তথ্যপূর্ণ ব্লগ পোস্ট লিখুন। ভিডিও বা অডিও কন্টেন্ট যোগ করুন — এগুলো মানুষকে বেশিক্ষণ ধরে রাখে।
৫. বাউন্স রেট (Bounce Rate) — ৩৭%
বাউন্স রেট হলো সেই ভিজিটরদের শতাংশ যারা শুধু একটি পাতা দেখেই সাইট ছেড়ে চলে গেছেন, অন্য কোনো পাতায় যাননি। ৩৭% মানে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩৭ জন শুধু প্রথম পাতাটি দেখে চলে গেছেন।
এটি থেকে কী বোঝা যায়?
বাউন্স রেট যত কম, তত ভালো। তবে এটি সম্পূর্ণ শিল্পের ধরনের উপর নির্ভরশীল। একটি ব্লগের জন্য ৩৭% বাউন্স রেট চমৎকার — শিল্প ও সংস্কৃতির ওয়েবসাইটে ৪০-৬০% স্বাভাবিক।
✅ করণীয়: লোডিং স্পিড উন্নত করুন। পাতার শুরুতে আকর্ষণীয় ছবি বা একটি শক্তিশালী শিরোনাম রাখুন যা মানুষকে আরও পড়তে উৎসাহিত করে।
৬. প্রতি সেশনে পেজ (Pages per Session) — ২.৬৮
গড়ে প্রতিটি সেশনে একজন ভিজিটর ২.৬৮টি পাতা দেখেছেন। অর্থাৎ মানুষ শুধু একটি পাতায় থেমে যাচ্ছেন না, আরও ঘুরে দেখছেন।
এটি থেকে কী বোঝা যায়?
এই সংখ্যা যত বেশি, তত ভালো। এর মানে আপনার সাইটের কাঠামো ভালো এবং মানুষ বিভিন্ন পাতা দেখতে আগ্রহী। ২.৬৮ একটি স্বাস্থ্যকর পরিসংখ্যান।
✅ করণীয়: প্রতিটি পাতায় ‘আরও পড়ুন’ বা ‘এটিও দেখুন’ ধরনের সম্পর্কিত পাতার লিঙ্ক রাখুন। ভিজিটরকে গাইড করুন পরবর্তী পাতায় যেতে।